এই গল্পটি উৎসর্গ করছি আমার আদরের ভাগ্নাকে। সে অত্যন্ত ভদ্র এবং ভালো একটি ছেলে। আমি আমার মামার কাছ থেকে ছোটবেলায় গল্প গুনতাম। মামার কাছ থেকে গল্প শোনা মানে খুব আনন্দের একটি বিষয় ছিলো। সময় এগিয়েছে এবং প্রযুক্তি এর কারনে সকলেই অন্য এক প্রজন্মে এসেছে। এখন দূর থেকে ভাগ্নাদের মামারা গল্প শোনায় ইন্টারনেট, টেলিভিশন বা স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে। আমার ভাগ্নাদের মধ্যে ছোট আপুর ছেলে এবং আমার খালাতো বোন এর ছেলে এই দুই ভাগ্নাকে এই গল্প উপহার হিসেবে দিলাম। আমার বড় আপুর ছেলে বা আমার আর এক ভাগ্না অনেক ছোট। সে এই গল্প বুঝবে না। তাকেও এই গল্প উপহার দিলাম। বাকি থাকলো, বড় আপুর মেয়ে বা আমার ভাগ্নি। তাকেও উপহার দিলাম এই গল্প। প্রযুক্তি নিয়ে অনেক লিখেছি কিন্তু সেভাবে গল্প লেখা হয়নি। ডায়রি লিখতাম, কিন্তু এখন খুব একটা লেখা হয় না। অন্যান্য সকল পাঠকদের ধন্যবাদ এই Website এ আমার লেখা গুলো পড়ার জন্য।

তাহলে শুরু করা যাক।
গল্পের নামঃ যে প্রশ্নের উত্তর কেউ জানে না
লেখকঃ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (শুভ)
তারিখঃ ০৭ / ০৫ /২০২৪ (ইংরেজি)

পর্বঃ ১

পৃথিবীর গোপন প্রযুক্তির শ্রষ্ঠা একজন মানুষ এবং সে মুসলিম। সে অন্যরকম একজন মানুষ। প্রত্যেকের থেকে আলাদা। ছোট থেকে তার বিশেষ ক্ষমতা ছিল, যা সে জানত না। সে একটি সংখ্যা ব্যবহার করে এবং তা হচ্ছে ৫২। এটিই তার পরিচয়। সে উড়তে পারে! আকাশে। এমনকি তারার দেশেও সে যেতে পারে। সে যে উড়তে পাড়ে এটা অন্য কেউ জানে না। সে অতি সাধারণ ভাবে চলাচল করে। তার যখন ইচ্ছে হয় কারো উপকার করতে, তখন সে তার উপকার করে। তবে সে সবসময় ন্যায় এবং সত্যের পক্ষে। ৫২ একদিন একটা ছেলের সাথে দেখা করে। ছেলেটি কাদতে কাদতে তার চোখের পানি শেষ করে ফেলেছে। তার চোখে পানি দেখার সুযোগ হয়নি ৫২ এর। একদিন ৫২ তাকে নিয়ে এক চাতাল এর মধ্যে বসেছে তার সমস্যা শোনার জন্য। ৫২ ভাবছে, ছেলেটি অন্য ধর্মের, তার সাথে বন্ধুত্ব হতে পারে না। কিন্তু ৫২ তার বাবা মা এর কাছ থেকে শিক্ষা পেয়েছে যে, সকলের উপকারে কাজ করতে হবে। ৫২ তার গল্প শোনা শুরু করলো। তাদের ছোট্ট একটা রাজ্য ছিলো। সেখানে সৈন্য ছিলো, ঘোড়া ছিলো, মন্ত্রী ছিলো, নদী ছিলো, নৌকা ছিলো। তাদের সকলকে মুর্তি করে রেখেছে কেউ। তারা নরতে পারে না। সে তাদের মাঝে তার বাবা কে খোজে। কারন, তার বাবাকে মেরে ফেলেছে। সেই ছেলেটি এতো কেদেছে যে তার চোখে আর পানি নেই কাঁদবার মতো। ছেলেটি ৫২ এর থেকে বয়সে বড়। ৫২ বুঝে উঠতে পাচ্ছিলো না যে কি করবে। সেই ছেলেটি বললো যে, তাদের মধ্যে একবার একটা ঘটনা ঘটেছিলো। একটা হাতি কেমন করে যেন একটা মন্ত্রী এর জায়গা দখল করে ছিলো এবং মন্ত্রীটা হাতি হয়ে গিয়েছিলো। ৫২ এর কাছে, এই রহস্য খুব সন্দেহজনক মনে হচ্ছিলো। ৫২ তার মুখে হাসি ফোটাতে চায়। সে তখন তাকে বিশেষ এক কৌশলে খুশি করে দিলো। ছেলেটি হাসলো। বাবা হারা কোন ছেলের মুখে হাসি ফোটানো ছোয়াবের কাজ কিন্তু অন্য ধর্মের ছেলেকে খুশি করা উচিৎ কিনা তা সে জানে না। ৫২ ঘরে ফিরলো। এরপর সে ভাবলো ছেলেটি ভিষণ দুর্বল, তাকে শক্তিশালি করা উচিত। তখন সে একটি বল তাকে দিলো যা তাকে শক্তি দিবে। এই শক্তির বল ৫২ অন্য এক রাজ্যে জিতে পেয়েছিলো। সেটা তার প্রয়োজন ছিলো না। তাই সে তাকে সেটি দিয়ে শক্তিশালি করেছিলো। এই বলটির আরো একটি শক্তির উৎস ছিলো। তা হচ্ছে, টিপু, টিপু । এই জায়গায় সেই রহস্য। বলটি হাতে নিয়ে টিপু, টিপু বলার সময় যদি কেউ অন্য কিছু বলে, তাহলে সেখানেই পাওয়া যাবে তার বাবার মৃত্যুর রহস্য এবং তাদের রাজ্যের সমস্যার কারন। সেই সময় চলে এলো। ৫২ আগ্রহ নিয়ে আছে সেই রহস্য উৎঘাটন করার জন্য। হঠাৎ সে বলে উঠলো RIP U, RIP U! ৫২ তখন তাকে শক্তি দিয়ে শুরু করলো তার পরবর্তি পদক্ষেপ। সে সুত্র পেয়ে গেছে। এখন শুরু পরবর্তি কার্যক্রম। শক্তি পেয়ে ছেলেটি ৫২ কে আক্রমন করতে চাইলো। ৫২ এর তখন শয়তানের কথা মনে পড়লো। অন্য ধর্মের তাই এই দশা। সেই ছেলেটি ছিলো হিন্দু ধর্মের অনুসারী। ৫২ তার সাথে চলা ফেরা বন্ধ করে দিলো। কিন্তু ৫২ এর ইচ্ছে যে, তার সমস্যা সে সমাধান করে দিবে। কিন্তু তার অসৎ আচরনের জন্য ৫২ তাকে একটি মৃত গাছের অংশের উপরে তুলে দিয়ে সেখান থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার সদ্ধান্ত নিলো। কিন্তু ৫২ এর কিছু বন্ধু তাকে যেতে দিলো না। ৫২ তার সেই ভালো বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে লাগলো। একদিন সেই ছেলেটি ৫২ কে বললো, তুমি ওদের দলে না, তুমি আমার দলে যোগ দাও। ৫২ মনে মনে হাসলো। দল! সে আবার কি! ৫২ শুধু জানে আমরা মুসলিম এবং অমুসলিমদের সঠিক ধর্মে ফিরিয়ে আনা এবং এটিই হচ্ছে মুক্তি এবং শান্তির ধর্ম এবং উপায়। সেই ছেলেটি ৫২ এবং তার বন্ধুদের বলতে লাগলো এক নতুন রাজার কথা এবং তাদের দলে যোগ দেয়ার কথা। তখন ৫২ খোজ নিয়ে দেখলো সেই রাজা খ্রিষ্টানদের রাজা। ৫২ বললো, দেখো, তুমি হিন্দু আর তারা খৃষ্টান, তুমি কেন তাদের দলে যোগ দিবে! তাদের রাজায় বা কেন মানবে! ওটা সঠিক ধর্ম নয়। আমি মুসলিম এবং আমি মুসলিমদের সাথেই থাকবো। ৫২ ভাবছে, এখানে কোন রহস্য আছে। টিপু টিপু এবং RIP U , RIP U! এর সাথে এর একটা সম্পর্ক তো অবশ্যই আছে। ৫২ জানতে পারলো যে ছেলেটির মায়ের নাম পুর্নিমা। মানে চাঁদের আলো। আলো আসে সুর্য্যের কাছ থেকে। ৫২ চাঁদের দেশে গেলো । সেখানে গিয়ে দেখে সুর্য্য এর আলো একটি বুড়ি চুরি করছে। সেখানে বন্য ফুল তুলে কি যেন করছে। ৫২ সুর্য্যের কাছে গিয়ে সুর্য্যকে বললো, তুমি ওই বুড়ি টাকে আর আলো দিয়ো না। কারণ, আমার পরিচিত একটি ছেলের সমস্যার উৎস এটি। তারা আল্লাহকে না মেনে তোমার শক্তিকে স্রষ্ঠা মনে করছে। সুর্য্য তখন হেসে বললো, তাই নাকি! ৫২ এর সাথে সুর্য্যের খুব ভালো সম্পর্ক। সুর্য্য তখন বললো, আচ্ছা ঠিক আছে আর আলো দিবো না। এরপর ৫২ পৃথিবীতে নেমে এলো। আর পরের রাতে ঘোরন্ধকার। ৫২ তখন অন্ধকারের কাছে গিয়ে অন্ধকারকে বললো, তোমার সাথে পুর্নিমার শত্রুতা কেন? সে বললো এই প্রশ্নের উত্তর আমি তোমাকে এখন দিবো না। তোমার মনে আছে একটি পাগলের কথা? সেই মেঠো পথে যার সাথে তোমার দেখা হয়েছিলো? সেই পাগলকে তুমি সুস্থ করে দিয়েছো। তার অন্যায় থেকে সে মুক্তি লাভ করেছে। তাই তোমার সাথেও আমার শত্রুতা আছে। ৫২ বললো, তুমি বোঝাতে চাইছো যে তুমি হিন্দুদের কালি? সে তখন হাসলো। এরপর ৫২ আলোতে আসলো। হিন্দুরা অন্ধকারকে কালি বলে এবং আমরা বলি রাত। এরপর ৫২ এবং তার সেই পাগল বন্ধু এবং অন্যান্যরা খেলছে। হঠাত সেই পাগল ছেলেটি যে সুস্থ হয়েছে, তাকে সে চিকা বলে গালি দিলো। চিকা মানে RAT এবং রাত মানে অন্ধকার। আরে এই হিন্ধু ছেলের দেখি কালির সাথে শত্রুতা! অন্য ধর্মের মধ্যে ৫২ এর ঢুকতে ইচ্ছে করলো না। এরপর ৫২ এর গাঁ হিম করা রহস্যকর অধ্যায় শুরু। ৫২ জড়িয়ে পোরলো এক বিশাল যুদ্দে । সেখানে তার সাথে দেখালো রাজা, রানী, বাদশা, প্রজা, মন্ত্রী সহ রাজকন্যা এবং অন্যান্যদের। শুরু হলো ৫২ এর পৃথিবী জয়ের ইতিহাস। এখন রাত .৩ টা বেজে ৪৯ মিনিট। তাই লিখছি না।

 

চলবে ………

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

0
    0
    Your Cart
    Your cart is emptyReturn to Shop